You are visiting Premium Sweets Bangladesh. Click here to go to  
FOR ENGAGEMENT SWEETS DALA, WEDDING SWEETS AND DESSERT TABLE PLEASE CALL +88 0193 7113 542 OR +88 0170 3838 383
Premium Sweets > Blog
নক্ষত্রের আলোয় মাকে দেখা ...
মাঝ বয়েসী ভদ্রলোক। নিজেই ড্রাইভ করছেন আজ । দামী সিডান ডেইমলার-এজি এস ক্লাস পুলম্যান, আলট্রা-লাক্সারী, ডার্ক গ্লাস। পরিপাটি পোষাক, মাথাভর্তি মার্ক রাফেলোর সিলভার-গ্রে চুল , প্রগ্রেসিভ গ্লাসের সিলোয়েট ফ্রেমে রিমলেস চশমা, দ্যুতিময় চোখ, রিচার্ড গেয়ার যেন ঢাকায়, এইজিং উইথ গ্রেস । বয়স ? আটচল্লিশ থেকে পন্চাশের মাঝামাঝি, সময় পেলে নয়, সময় করেই জিমে যান পড়ন্ত বিকেলে, সুইম শাওয়ার শেষে ক্লাবের দোতলায় নিয়মিতই, ম্যাক্সিমাম রাত ১০টা অব্দি। আড্ডা যতই জমুক, সাড়ে দশটায় বাড়ী। বন্ধু বান্ধব সবাই জানেন, মাঝরাতে উনি ক্লাবে থাকা মানে সঙ্গিনী আর ছেলে মেয়ে সব দেশের বাহিরে।
কদিনের জন্যে যখনি দেশে ফেরা, কমন কয়েক বন্ধুর আমন্ত্রণে এ টেবিলেই কাটে ঢাকার সন্ধে। টেবিলে প্রায় সবাই স্বল্পভাষী, যদিও হিউমারের কমতি নেই , সচরাচর ব্যস্ত দিনের শেষে গুলশানের পন্চাশ নম্বর রোডের দোতলায়, মাল্টিন্যাশনালের সিইও, গ্লোব-ট্রটার বিজনেস পার্সোনালিটি, এডিটর থেকে এজেড্ জেনারেল। সুন্দর সময় কাটে বছরের কয়েকটা দিন।
আজ শুক্রবার, ডিপ্লোম্যাটিক কয়েকটা ক্লাব ছাড়া ঢাকার সব ক্লাব সো-কল্ড ড্রাই। রোড ঘাট রিল্যাক্সড্। ফ্যামিলি ডে। ব্যস্ত ফুটপাথের সাথে রোডের দিকে ফেস করা ফ্লোর টু সিলিং গ্লাস উইন্ডো, ইম্পোর্টেড ফ্রেশ ফ্লাওয়ার শপ। গাড়ীথেকে নেমে ধীরে এগোলেন মাঝবয়েসী ভদ্রলোক বন্ধু, বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। রোববার মাদার্সডেতে ফুল পাঠাবেন সিলেটে ব্যবসায়ী ভাইয়ের কাছে বেড়াতে যাওয়া মাকে , সাথে নিজ আর প্রিয়ধর্মিনীর সব ভাই বোনের ফ্যামিলির প্রত্যেক মাকে । বলে রাখি, ওনার বাবা ছিলেন ফ্লেচার স্কুল অব ডিপ্লোমেসির ইন্টারন্যাশনাল এফেয়ার্সের ট্যালেন্ট, নিজেও এল এস ই লন্ডনের টপ স্কোরার। যাক, অর্ডার করছেন একটার পর একটা , বোঝেন, দ্য ল্যাংগুয়েজ অব ফ্লাওয়ার্স, রেড টিউলিপের সাথে হোয়াইট লিলি, আই ডিক্লেয়ার মাই পিওর লাভ..
দুপরিবারের সাত আর নিজের মা , মোট আটটা অর্ডার । ফ্লোরিষ্ট বললেন, স্যার অপুর্ব চয়েস, যদিও তার দৃষ্টি জানালার ধারে, বাইশ-তেইশ বছর বয়েসী মেয়েটির দিকে। বললেন আশ্চর্য্য , স্যার আপনি এসেই অর্ডার করলেন যে ফ্লাওয়ার কম্বো, মেয়েটি একঘন্টার উপর একই কম্বো হাতে নিয়েছে, কিন্তু কিছুই বলছেনা ! ভদ্রলোক তাকালেন, আসলেইতো! শপে ঢুকতেই চোখ পড়েছিলো মেয়েটিকে, ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন নিজের অর্ডারে! স্নিগ্ধ, আশ্চয্য সুন্দর মেয়েটি, একই ফুল হাতে !
জড়তা না করে এগোলেন, হাসি মুখে প্রশ্ন, এতো ফুলের মাঝে হোয়াইট লিলি আর রেড টিউলিপ কার জন্যে?
- মাকে দেব, অনায়াস স্বীকারোক্তি।
- গ্রেট চয়েস, ইয়োর মাম ইজ ইনডিড লাকী টু হেভ এন এডোরেবল ডটার লাইক ইউ!
মনে হলো মেয়েটা অকস্সাৎ শক্ খেলো! পরমুহূর্তে সম্বিত ফিরে বলল আই এম হ্যাপি টু নো শি উইল বি হ্যাপি ।
মাদার্স ডে রোববারে, ৮ই মে, অর্ডার কনফার্ম করতেই দেখলেন , ততক্ষনে মেয়েটি কিনে নিয়েছে সেইম কম্বো। ফ্লোরিষ্টের এসিসটেন্টকে বলল, আমার গাড়ী নেই, বনানী ২৭ নম্বরে, মায়ের কাছে যাব, রিকশা ডাকবেন প্লিজ।
- ইউ ডোন্ট মাইন্ড, ইফ আই ড্রপ ইউ টু ইয়োর মাম ? আই এম গোয়িং টুয়ার্ডস গলফ্ ক্লাব, থ্রু এয়ারপোর্ট রোড, ইট উড বি মাই প্লেজার, বললেন ভদ্রলোক ।
- ওয়েল , আর ইউ সিওর স্যার ? ওকে । রিকশা আসতে কে জানে কতক্ষন? আই হ্যাভ টু বি ব্যাক ইন মেডিক্যাল হোষ্টেল বিফোর ডার্ক। মাই ড্যাড ইজ অলয়েজ লেট! চলুন প্লিজ ..
দুজনই উঠলেন গাড়ীতে। জানলেন সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে মেয়েটি, মেডিক্যালে। কামাল আতাতুর্ক থেকে বনানী সাতাশ নম্বর, সাত আট মিনিট। খানিকটা অন্যমনস্ক দুজনই, সাতাশ নম্বরে খানিকটা এগোতেই বললেন ভদ্রলোক
- লেট মি নো হুইচ হাউজ
- জাষ্ট এ বিট এহেড, প্লিজ ..
আর কিছুদুর এগোলেই তো এয়ারপেরপোর্ট রোড ! ভাবছেন ভদ্রলোক !
হঠাৎ বলল মেয়েটি
- প্লিজ স্টপ, এখানেই । এন্ড ডোন্ট ওয়ারি, মাই ড্যাড উইল পিক মি আপ ফ্রম হিয়ার, ইন হ্যাফ এন আওয়ার ।
- ওকে, আশ্বস্ত ভদ্রলোক
- থ্যাংক ইউ
মেয়েটি নতচোখে নেমে গেল গাড়ী থেকে । ভদ্রলোক তাকিয়ে দেখলেন, মেয়েটি রোড পাড় হচ্ছে, হাতে সদ্য কেনা হোয়াইট লিলি উইথ রেড টিউলিপ।
ওহ্ মাই গড! আতংকিত ভদ্রলোক!
এতো বনানী কবরস্থান!
একটু এগিয়ে গাড়ী পার্ক করলেন তিনি, রোডের ধারেই । কৌতুহল বশতই এগোলেন কবরস্থানের ভেতর । খানিক যেতেই দেখলেন সদ্যই মাটি দেয়া কবরস্থানের উপর ছড়িয়েছে একটু আগের কেনা ফুল , অঝোরে ফুপিয়ে কাঁদছে মেয়েটি, পাশে মেয়েটির বাবা, তাঁর চোখেও জল।
সম্বিত ফিরে পেলেন ড্রাইভারের কলে। বললেন এখনি আস বনানী ২৭ নম্বরে। এক্ষনি সিলেটে যাব, মাকে আনতে ...
—————
হ্যাপি মাদার্স ডে. ২০১৬
পৃথিবীর সব মাকে ।
যারা নক্ষত্রের আলো দেখিয়েছেন
আমাকে আপনাকে ।
No Comment Posted Yet, Be the first one to Leave a comment